Page: 026

শ্রীশ্রীহরি লীলামৃতপৃষ্ঠা নং : ২৬

স্বক্ষেতে বিশ্বনাথ দরশন করি ।
শমন দমন করি বলে হরি হরি ।।
মাতা পিতা ধাত্রিকে বসায়ে এক ঠাই ।
বলে মা বিদায় দেহ কাশীধামে যাই ।।
আধ্যাত্মিক ভাবেতে সকলে বুঝাইল ।
রাজপুত্র কাশীধামে গমন করিল ।।
একবর্ষ কাশীধামে করে হরিনাম ।
কিবা দিবা বিভাবরী না করি বিরাম ।।
যে দিনেতে কুমারের আসন্ন সময় ।
আনন্দ কাননে বসি হরিগুন গায় ।।
এসে পরে বিশ্বেশরে করে দরশন ।
বহুস্তবে তোষে ভবে করিয়া রোদন ।।
সিদ্ধ ঋষি তথা বসি বিশ্বশর দ্বারে ।
রাজপুত গিয়া তথা তার পদ ধরে ।।
পরমহংস , অবতংশ উলঙ্গ সন্ন্যাসী ।
দীর্ঘজীবী তুই হবি বর দিল হাসি ।।
রাজপুত্র বলে সুত পরমায়ু নাই ।
সহস্রায়ু তোর আয়ু বলিল গোঁসাই ।।
হেনকালে সেই সাধু গঙ্গা স্নানে যায় ।
রাজপুত্র হাঁচি দিল এমন সময় ।।
হাঁচি শুনি সাধু শিরোমণি দিল বর।
জীবন সহস্র বলে করে ধরে কর ।।
রাজপুত্র সাধুর চরণ গিয়া ধরে ।
আজ মম মৃত্যু ব’লে ভাসে অশ্রুনীরে ।।
সাধু বলে হরি যে দিয়াছে হাঁচি ।
জীবন সহস্র আমি তাহারে বলেছি ।।
রনে বনে গমনে ভোজনে স্নানে দানে ।
হাঁচিতে সুফল বেদের বিধানে ।।
পশ্চিমে পরিলে হাঁচি বহু লভ্য হয় ।
পশ্চিমেতে হাঁচি প’ল স্নানের সময় ।।
হরিনাম ধ্বনি তোর ভক্তি রসময় ।
তাতে তোর হাঁচি শুনে প্রফুল্ল হৃদয় ।।
জীবন সহস্র মম মুখেতে আসিল ।
কুমার তোমার ভাগ্য প্রসন্ন হইল ।।
রাজপুত্র বলে মম অবশ্য মরন ।
বলিতে বলিতে তথা আইল শমন ।।
মহিষ বাহন যম কালদণ্ডাকারে ।
রাজপুত্র বলে ঐ নিতে এল মোরে ।।
সাধু বলে চল শঙ্করের কাছে যাই ।
দেখি বাক্য রাখে কিনা শঙ্কর গোঁসাই ।।
হেনকালে অন্নপূর্ণা বলে মৃদু হাসি ।
দৈববানী প্রায় যেন বলিল প্রকাশি ।।
বহুদিন করে সাধু সাধন ভজন ।
সত্য সত্য সাধু বাক্য না হবে লঙ্ঘন ।।
বিশ্বেশর বলে তুমি শুন ব্রহ্মময়ী ।
তুমি যাহা বলিলে আমার বাক্য অই ।।
সাধু বলে ধর্মরাজ শুনিতে কি পাও ।
রাজপুত্র পরিবর্তে মম প্রান লও ।।
শঙ্করী শঙ্কর বাক্য আমি দিনু বলে ।
তিনবাক্য নষ্ট হয় রাজপুত্র নিলে ।।
যম বলে তব বাক্যে ছাড়িনু কুমারে ।
নির্ভয়েতে হরিভক্ত যাক নিজ ঘরে ।।
রাজপুত্র চলে গেল আপন ভবনে ।
বন্দিলেন পিতা মাতা ধাত্রীর চরনে ।।
দুরন্ত কৃতান্ত শান্ত এ বৃতান্ত শুনি ।
জয়পুরে প্রেমানন্দ জয় জয় ধ্বনি ।।
ধাত্রীবাক্যে পরে করে মহা মহোৎসব ।
হরি বলে নৃত্য করে যতেক বৈষ্ণব ।।
আর দেখ কর্ণ পুত্র বৃষকেতু ছিল ।
করাতে কাটিয়া তারে কৃষ্ণ পূজা কৈল ।।
সেই পুত্র বাচালে কৃষ্ণ ভগবান ।
কেন না বাচিবে বল এ ছেলের প্রান ।।
কত মতে সাধু সেবা কৈল যশোমন্ত ।
কেন ছেলে বাচিবেনা ভক্তি করে ।।
বৈষ্ণবের সুখভঙ্গ এই ভয় করে ।
দুঃখ নাই মড়া ছেলে সেরে রাখে ঘরে ।।
যশোমন্ত পুত্র দিল অন্নপূর্ণা কোলে ।
পতিপদ ধরি সতী হরি হরি বলে ।।
ওহে নাথ এ তনয় আমার তো নয় ।
ছেলের জীবন পেল বৈষ্ণবের কৃপায় ।।
এছেলে থাকুক সাধু সেবায় নিযুক্ত ।
বৈষ্ণবের নফর হউক বৈষ্ণবের ভক্ত ।।
বৈষ্ণবের দাস হবে মম অভিলাস ।
এ ছেলের নাম থাক শ্রীবৈষ্ণব দাস ।।
পরে গৌরীদাস পরে শ্রীস্বরূপ দাস ।
এক বিষ্ণু পঞ্চঅংশে ভুবনে প্রকাশ ।।
পঞ্চভাই জন্ম নিল ভুবনের মাঝ ।
রচিল তারকচন্দ্র কবি রসরাজ ।।