Page: 194

শ্রীশ্রীহরি লীলামৃতপৃষ্ঠা নং : ১৯৪

এইরূপে প্রভু সঙ্গে ভক্তের বিহার।
গেল দিন কহে দীন রায় সরকার।।


মহাপ্রভুর লালচাঁদের ভবনে উপস্থিত

পয়ার

তথা হ’তে ভোজন করিয়া ত্বরান্বিত।
লালচাঁদ ভবনেতে প্রভু উপনীত।।
পশ্চিম দুয়ারী ঘর পূবের পোতায়।
বসিলেন প্রভু সেই ঘরের পিঁড়ায়।।
ভক্তগণ কেহ কেহ বসেছে পিঁড়ায়।
কেহ কেহ বসিলেন তাহার নীচায়।।
ইতিপূর্বে এই লীলা প্রথম সময়।
পাগল বলিয়া খ্যাতি যা’দের ধরায়।।
পূর্ব পূর্ব মহাজন তা’দের বারতা।
স্বয়ং প্রভু কহিছেন সেই সব কথা।।
মহাপ্রভু কহে কথা শুনিতে মধুর।
মধুর হ’তে মধুর অতি সুমধুর।।
এইরূপে ইষ্ট গোষ্ঠ কৃষ্ণ কথালাপ।
আর যত এইদানি পাগল প্রস্তাব।।
প্রভু হরিচাঁদ কহে লালচাঁদ ঠাই।
তোর বাড়ী বেত আছে শুনিয়াছি তাই।।
লালচাঁদ কহে প্রভু ভাল বেত আছে।
লতিয়া উঠিছে বেত বড় বড় গাছে।।
অই সব বড় আম গাছ দেখা যায়।
বেত বেয়ে উঠিয়াছে গাছের আগায়।।
বসিয়া দু’জনে হইতেছে দেখাদেখি।
থলি থলি বেত ফল রহিয়াছে পাকি।।
এই বেত হ’তে দু’টি বেত দেহ মোরে।
আর এক ইচ্ছা বেত ফল খাইবারে।।
লালচাঁদ বলে বেত পাকিয়াছে ভারি।
টান দিলে বেত ফল যাইবেক পড়ি।।
ফলধরা বেত বড় ভাল নাহি হয়।
অফলা পুরান বেত দিব মহাশয়।।
ঠাকুর বলেন আগে বেত ফল আন।
তাহা শুনি মৃত্যুঞ্জয় করিল প্রয়াণ।।
ঠাকুর কহেন অই বেত বড় ভাল।
বেশী নহে মাত্র দু’টি বেত গিয়া তুল।।
দু’টি বেত তুলিয়া আনহ মম ঠাই।
বেত তোলা শেষ কথা আগে ফল চাই।।
মৃত্যুঞ্জয় দু’টি বেত কাটিল কেবল।
একটি নিস্ফল তার একটি সফল।।
ফল ধরা গাছ কাটি বলে মৃত্যুঞ্জয়।
তব ফল লাগিবেক প্রভুর সেবায়।।
সুপক্ক হ’য়েছে ফল পড়িও না তবু।
তোমাকে করিবে সেবা স্বয়ং মহাপ্রভু।।
মৃত্যুঞ্জয় কাঙ্গালী তারক তিনজন।
বেত টানি বাহির করিল ততক্ষণ।।
বেত ফল তুলি, ধরি লইল বাটীতে।
ঝাড়া দিল থলি ধরি পাত্র উপরেতে।।
এক ঝাড়া দিলে সব ফল পড়ি যায়।
অর্ধ অর্ধ খোসা মাত্র রহিল বোটায়।।
অবশিষ্ট অর্ধ খোসা বাছিয়া ফেলিয়া।
ঠাকুর সম্মুখে দিল কাসন্দ মাখিয়া।।
একমুষ্টি ধরি প্রভু দিলেন বদনে।
বলে মৃত্যুঞ্জয় ভাল খাওয়ালি এখনে।।
কোথা লাগে আম আর কোথা লাগে দুধ।
বেত ফল মিঠা যেন বিদুরের খুদ।।
আম ফল খাইতেছি দুই তিন দিন।
হঠাতে এ বেত ফল খাই বৈবাধীন।। (দৈবাধীন)
বিদুরের বাড়ী কৃষ্ণ খান একদিন।
সেই একদিন আর এই একদিন।।
প্রভু বলে দু’টি বেত কাটিলে যতনে।
একটা আনিলে ওটা গাছে রল কেনে।।
সেই বেত বাহির করিল তিনজনে।
মৃত্যুঞ্জয় কহিলেন কাঙ্গালীর স্থানে।।
ভাল ভাল বেত কত আছে এই গাছে।
দুটি বেত লই কেন কত বেত আছে।।
প্রভু আজ্ঞা দু’টি বেত আর এক ল’ব।
তাতে কি প্রভুর কাছে অপরাধী হ’ব।।
লাগিবে প্রভুর কার্যে মন্দ হবে কিসে।
তাই ভেবে আর এক বেত কাটে শেষে।।
বেত কাটি তিন জনে ধরি টান পাড়ে।
থাকমনে বেত পাড়া পাতা নাহি লড়ে।।
যারে দেখে তারে ডাকে হাট উঠাইয়া।
এক এক জন করি বেত টানে গিয়া।।
এক এক জন করি ধরিতে ধরিতে।
চৌদ্দ জনে বেত টানে না পারে নামাতে।।
নাহি ছিঁড়ে নাহি পড়ে না লড়ে না সরে।
আমের গাছের ডাল কড়মড় করে।।