Page: 230
শ্রীশ্রীহরি লীলামৃতপৃষ্ঠা নং : ২৩০
শঙ্খচূড় বেশ ধরি গিয়া নারায়ণ।
ছলে করে তুলসীর সতীত্ব হরণ।।
জানিয়া তুলসী শাপ দিলেন হরিরে।
পাষাণ হৃদয় হরি ছলিলে আমারে।।
বিনাদোষে আমার সতীত্ব বিনাশিলে।
নাহিক শীলতা তুমি হও গিয়ে শীলে।।
হরি বলে পূর্বে তুমি মোরে কৈলে আশা।
মোরে পতি পাবে ব’লে করিতে তপস্যা।।
কথা ছিল মনোবাঞ্ছা পুরাব তোমার।
সেই ছলে পতি নাশ করিনু এবার।।
আমি করি নাই তব সতীত্ব ভঞ্জন।
বাঞ্ছা পূর্ণ করি শাপ দিলে অকারণ।।
এক কার্যে দুই কার্য হইল আমার।
মোরে শাপ দিলে কেন করি অবিচার।।
পুরাতে তোমার বাঞ্ছা আসি তব ঘরে।
দেবতার উপকার করিবার তরে।।
না বুঝি শাপিলা মোরে পাষাণ হইতে।
পাষাণ হইব আমি গণ্ডকী পর্বতে।।
অন্যথা করিতে নারি তোমার এই বাক্য।
আমি শীলা হইলাম তুমি হও বৃক্ষ।।
থাকিব তোমার মূলে তোমার ছায়ায়।
ডালে ডালে মঞ্জরীতে পাতায় পাতায়।।
শালগ্রাম রূপে ব্রাহ্মণের ঘরে রব।
হেঁটে পিঠে বক্ষে বক্ষে তোমারে রাখিব।।
ভগবান এক কাজ করিতে সাধন।
বহু কর্ম তাহাতে করেন সমাপন।।
শালগ্রাম হইবে মালার সুতেতে।
গজ মুণ্ড ধরিলেন পার্বতী কোলেতে।।
মহামায়া জননীর বাঞ্ছা পূর্ণ করি।
থাকিল গণেশ রূপে আপনি শ্রীহরি।।
ভোলানাথ ভাবিলেন আমি বা কি করি।
আমার হইল পুত্র আপনি শ্রীহরি।।
অনন্ত বৃষভরূপে আমার বাহন।
গরুঢ় রূপেতে আমি বহি নারায়ণ।।
গণেশ রূপেতে হরি আমার নন্দন।
আমি পুত্র রূপ হ’য়ে ভজিব চরণ।।
শিব ভাবে হরি হ’ল আমার নন্দন।
হরির নন্দন হব আমি অভাজন।।
আমার বাসনা পূর্ণ করিব কোথায়।
পুত্ররূপে জন্ম লব গিয়া নদীয়ায়।।
এইবার সেই লীলা করে নারায়ণ।
অবশ্য হইব আমি হরির নন্দন।।
জীব উদ্ধারিতে প্রভু করিলে প্রতিজ্ঞে।
ভক্ত পারিষদ সব পাঠাইল অগ্রে।।
স্বয়ং এর অবতার হয় যেই কালে।
আর আর অবতার তাহে এসে মিলে।।
কেহ অগ্রে আসে কেহ পশ্চাতে আইসে।
লীলা প্রভাবেতে কালে তার মধ্যে মিশে।।
সেই মহাদেব অগ্রে এসে শান্তিপুর।
ভক্তি প্রচারিল হ’য়ে অদ্বৈত ঠাকুর।।
কৃষ্ণভক্তি নিন্দা শুনি পাষণ্ডীর মুখে।
পণ কৈল প্রভুকে আনিব মর্তলোকে।।
লয়ে ফুল তুলসী করিল অঙ্গীকার।
অদ্বৈত হুঙ্কারে হ’ল গৌর অবতার।।
সেও লীলা সাঙ্গ করি ভাবে পঞ্চানন।
এবার না হ’ল মম বাসনা পূরণ।।
শেষ লীলা হ’ল যশোমন্তের তনয়।
অবতীর্ণ হ’ল হরি সফলাডাঙ্গায়।।
শিব ভাবে হেন দিন আর কবে পাব।
এবার প্রতিজ্ঞা মম পূরণ করিব।।
বহুদিন পর এই হয়েছে সময়।
এবার হইব আমি প্রভুর তনয়।।
প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করিবারে পঞ্চানন।
ওঢ়াকাঁদি করিলেন জনম গ্রহণ।।
জন্মিলেন শান্তিদেবী মায়ের উদরে।
নিজের প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করিবার তরে।।
আরো কথা তার মধ্যে জীব পরিত্রাণ।
সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম প্রেম সুধাদান।।
অলৌকিক লীলারস পারিনে বর্ণিতে।
কথঞ্চিৎ বলি সেই প্রভুর কৃপাতে।।
হরিপাল গিয়াছিল প্রভুর সদনে।
সম্পত্তি বাড়িবে এই বাঞ্ছা করি মনে।।
প্রচুর সম্পত্তি তার হ’ল অল্প দিনে।
তার হ’ল গাঢ় ভক্তি প্রভুর চরণে।।
উঠিল প্রেমের ঢেউ তাহার হৃদয়।
এ সকল হল গুরুচাঁদের কৃপায়।।
যখনেতে প্রভু কৈল লীলা সম্বরণ।
ভক্তগণ কাঁদে ধরি প্রভুর চরণ।।
ওহে প্রভু আমাদের তুমি ছেড়ে গেলে।
কেমনে রাখিব প্রাণ দেহ তাহা বলে।।