Page: 101
শ্রীশ্রীহরি লীলামৃতপৃষ্ঠা নং : ১০১
জগৎ জনার বাপ, মোর বাপ তোর বাপ
তারে বাপ বলিতে কি ভয়।।
তোরা সব প্রতিবাসী, করিস কি হাসাহাসি
নিত্যানন্দ দাসী হই আমি।
নিতাই জগৎগুরু, প্রেমদাতা কল্পতরু
নিত্যানন্দ বাপ ভাই স্বামী।।
হেনভাবে সর্বক্ষণ, প্রেমাবিষ্ট তনু মন
নিত্য কৃত প্রাতঃস্নান আদি।
অরুণ উদয়কালে, স্নান ক’রে কুতূহলে
নিত্য লেপে তুলসীর বেদী।।
একদা সকাল বেলা, লইয়া গোময় গোলা
ঝাঁটা শলা দক্ষিণ করেতে।
লেপিছে বাহির বাড়ী, বাম করে গোলাহাঁড়ি
হরি হরি বলেন মুখেতে।।
এ হেন সময়কালে, জয় হরি বল বলে
গোঁসাই গোলোক উপনীত।
দেখিলে সকল লোকে, পাগল বলে তাহাকে
ভক্ত ওঢ়াকাঁদি ভাবাশ্রিত।।
মলিন বসনধারী, অঙ্গে কাঁথা বলে হরি
প্রণমিল সুভদ্রার পায়।
গোময়ের গোলা পদে, গোঁসাই মনের সাধে
পদরজ চাটিল জিহ্বায়।।
কহিছে সুভদ্রা ধনী, আমি বড় ঠাকুরানী
তুই বড় ভক্তি জানিস।
করিস কি ভারি ভুরি, মানিনে ও সাধুগিরি
কি বুঝিয়া আমাকে মানিস।।
ওঢ়াকাঁদি হরিচাঁদ, যিনি বৃন্দাবন চাঁদ
গৌর নিতাই চাঁদ যেন।
তার দায় দিয়া ফের, ভা’বো হ’য়ে ভাব ধর
মেয়েদের পদ চাট কেন।।
কাঁথাখানি দিয়া গায়, হেঁটে বেড়ালে কি হয়
ভাব যে ঠাকুর হইলাম।
খাও মেয়েদের এঠে, মেয়েদের পদ চেটে
অষ্ট অঙ্গে করহ প্রণাম।।
আয় দেখি মোর ঠাই, দেখি কেমন গোঁসাই
কতদূর ভাবেতে বিভোলা।
পদ চাটি কাঁদা খালি, এনেছি গোময় গুলি
খা দেখি এ গোময়ের গোলা।।
এ হেন বাক্য শুনিয়ে, গোঁসাই মৃদু হাসিয়ে
দুই কর পাতিল অঞ্জলি।
গোঁসাই না কহে বাণী, অমনি সুভদ্রা ধনী
হাঁড়ি ধরে গোলা দেয় ঢালি।।
গোঁসাইর নাহি দুঃখ, অমনি দিল চুমুক
সে অঞ্জলি খাইল তখন।
পুনশ্চ অঞ্জলি দিলে, সে অঞ্জলিও খাইলে
একবিন্দু হ’ল না পতন।।
পুনশ্চ কহে বৈষ্ণবী, কিরে বাছা আরো খাবি
অমনি গোঁসাই পাতে হাত।
দিলেন হাঁড়ি ঢালিয়ে, তৃতীয় অঞ্জলি খেয়ে
গোঁসাই করিল প্রণিপাত।।
সুভদ্রা কহিছে ম’তো, দেখি তোর ভক্তি কত
হস্ত ধৌত না করিও ধন।
গোঁসাই কহে কি করি, বুড়ি কহে শিরোপরি
হস্তদ্বয় করহ মার্জন।।
সুভদ্রা কহিল যাহা, গোস্বামী করিল তাহা
উত্তরাভিমুখে চলি যায়।
সদা মুখে হরিনাম, আসিল পদুমা গ্রাম
ফেলারাম বিশ্বাস আলয়।।
এদিকে সুভদ্রা গিয়ে, হস্তপদ পাখলিয়ে
করেতে লইল জপ মালা।
মালা জপিতে জপিতে, কম্প উঠি আকস্মাতে
গৃহমাঝে প্রবেশ করিলা।।
উঠিল পেটে বেদনা, তাহা না হয় সান্তনা
সুভদ্রা কহিছে হায় হায়।
উদর বেদনা জ্বালা, সেই গোময়ের গোলা
ভেদ আর বমি সদা হয়।।
নিতাই চৈতন্য বলে, ভাসে দু’নয়ন জলে
কিছুতেই না হয় প্রতিকার।
যত বলে শ্রীচৈতন্য, বেদনা বাড়ে দ্বৈগুণ্য
ভেদ বমি হয় বার বার।।
মৃত্যুঞ্জয় এসে ঘরে, তাহা নিরীক্ষণ করে
বলে কিবা হইল মায়ের।
গোময়ের গোলা যত, ভেদবমি অবিরত
বুঝিতে না পারি কর্ম ফের।।
মৃত্যুঞ্জয়ের বনিতা, বলে কিবা কহিব তা
দুষ্কার্য করেছে ঠাকুরানী।
যেমন করেছে কার্য, তাহা নাহি মনে গ্রাহ্য
কর্মফল ফলেছে অমনি।।
গোস্বামী গোলোক এসে, মা ব’লে প্রণামি শেষে
ঠাকুরানীর খায় পদধূলা।