Page: 086
শ্রীশ্রীহরি লীলামৃতপৃষ্ঠা নং : ৮৬
কেমনে সারিব পুত্র মনেতে ভেবেছে।
যোগবলে প্রাণ দিব বাঁচে কিনা বাঁচে।।
এত বলি হরি বলি প্রহরেক পরে।
ছেলের জীবন দিতে মাথা চেপে ধরে।।
হীরামনের রমণী কহিছে তাহারে।
মরা ছেলে রাখ কেন ফেলে এস ওরে।।
মুখ কাছে মুখ দিয়া দেহে দিবে প্রাণ।
বালকের মুখ যবে করিছে ব্যাদন।।
তাহা দেখি সেই ধনি করিছে চিৎকার।
মরা খায় মরা খায় একি ব্যবহার।।
আমাদের উহারে যে পাইয়াছে ভূতে।
মরা ছেলে হা করিয়া লেগেছিল খেতে।।
এতেক শুনিয়া সাধুর ক্রোধ উপজিল।
বালক ত্যাজিয়া তবে বাহিরে আসিল।।
বালকে লইয়া সবে ফেলাইয়া দিল।
ক্রোধেতে চৈতন্যবালা কহিতে লাগিল।।
আমরা ভেবেছি সবে বেঁচে এল হীরে।
হরিচাঁদ বাঁচায়েছে হরিনাম জোরে।।
তাহা কভু নহে ওরে ভূতে পাইয়াছে।
নিশা কিংবা ব্রহ্মদৈত্য জীবন দিয়াছে।।
নাহি করে গৃহকার্য মানুষ এ নয়।
মানুষ হইলে গৃহকার্যে মন লয়।।
হীরার যে রীতিনীতি সব গেল বোঝা।
ভূত ছাড়াইতে আন খণ্ডজ্ঞানী ওঝা।।
হরিপ্রেম বিকারেতে হীরামন রোগী।
কবি কহে ভব ব্যস্ত এ রোগের লাগি।।
গোস্বামী হীরামনের প্রতি কালাচাঁদ ফকিরের অত্যাচার বিবরণ।
পয়ার।
সাহাপুর মধ্যেতে আঁধারকোটা গ্রাম।
সেখানে ফকির আছে কালাচাঁদ নাম।।
সে ফকির পরিচয় কহিব এখন।
নাম কালাচাঁদ নমঃশূদ্রের নন্দন।।
বাওয়াল করিত গিয়া বাওয়ালীর সনে।
শিক্ষা তার মুসলমান ফকিরের স্থানে।।
লক্ষ্মীকালা ফকির সে ব্রাহ্মণের ছেলে।
বাদায় থাকিত সেও ফকিরামী নিয়ে।।
তাহার নিকটে শিক্ষা করে কালাচাঁদ।
ফকিরামী শিখে বাদা করেন আবাদ।।
আদি যে ফকির সেও মুসলমান ছিল।
সে ফকির হইতে ইহারা শিক্ষা নিল।।
চকে গিয়া দিত গাজী কালুর দোহাই।
চকে চকে বনে বনে নামিত সবাই।।
কালীর দোহাই দিত মনসা পূজিত।
বরকোত বিবি, লক্ষ্মীকালাকে ডাকিত।।
মাদার মুরসিদ বলি ছাড়িত জিগীর।
খোদার ফকির মুই আল্লাহ ফকির।।
আল্লা আলী হজরত আর লক্ষ্মীকালা।
হিন্দু ছেলে দিত গলে তছমীর মালা।।
হেলেল্লা হেলেল্লা বলে হইত আকুল।
হাতে ছিল লক্ষ্মীকালা দত্ত এক রুল।।
চকে গিয়া লোকে সুন্দরী কাঠ কাটিত।
রুল দিয়া গাছে এক আঘাত করিত।।
সেই আঘাতের শব্দ যতদূরে যেত।
তাহার মধ্যেতে সব সুন্দরী ছেদিত।।
দূরে গিয়া একজনে শব্দ শুনিত। (একেকজনে)
চারিদিকে চারি জন দাঁড়ায়ে রহিত।।
যতদূর শব্দ করি উঠিত সে রুল।
তাহার মধ্যেতে নাহি থাকিত শার্দূল।।
এই ধর্ম ছিল তার লোকমুখে শুনি।
হিন্দুধর্ম কিয়দংশ সকল যাবনি।।
শুকর কচ্ছপ নাহি করিত ভোজন।
মেষ অজা পেজ রসুন কুকুড়া ভক্ষণ।।
কচ্ছপ বরাহ মাংস বলিত হারাম।
রুলের আঘাতে করে রোগের আরাম।।
জ্ঞাতিগণে ডেকে বলে শ্রীচৈতন্য বালা।
এই ফকিরকে এনে সার এ পাগলা।।
লোক পাঠাইয়া সেই ফকির আনিল।
লোক সঙ্গে করিয়া সে ফকির আসিল।।
বাটীর উপরে যবে উঠিল ফকির।
হক আল্লা বলিয়া সে ছাড়িল জিগীর।।
যথা ছিল হীরামন সেইখানে যায়।
রুলখানা ধরি হীরামনকে দেখায়।।
এক এক বার রুল ঊর্ধ্বেতে ফেলায়।
ফেলাইয়া শূন্য হতে পুনঃ ধরি লয়।।
লোফা লোফী করে রুল হীরামন আগে।
দর্প করি হীরামনে কহে রাগে রাগে।।